0

নিচে এখানে উল্লেখ করা সব ঘটনাই ২–১ দিনের মধ্যে ঘটেছে। অর্থাৎ, একই বিষয়কে কেন্দ্র করে এসব ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু কেউ একবারও তালাকের কথা বলেনি।

1.

আমার স্বামীর সঙ্গে গতকাল ঝগড়া হয়েছিল। ঝগড়ার সময় আমার স্বামী আমাকে চলে যেতে বলেছিল। তবে সে বলেছিল, তালাক দেওয়ার নিয়তে বলেনি। আম্মুও তখন আমাকে আম্মুর বাসায় চলে যেতে বলেছিল।

এরপর আম্মু কী বলেছে, তা নিয়ে কথা ওঠে। আমার স্বামী আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি বলি, আম্মু আমাকে চলে যেতে বলেছে। আর আম্মু বলেছে, “সে তোকে ভালোবাসে না, তুই শুধু একতরফা ভালোবাসিস।”

এ কথা শুনে আমার স্বামী বলে, “চলে যেতে তো বলেছিলাম, তাহলে এসেছিস কেন? এখন কেন চলে যাচ্ছিস না?” এরপর সে বলে, “চলে গেলে বুঝতে পারবি, দুনিয়া কত কঠিন।”

আমার মনে হয়েছে, সে হয়তো বোঝাতে চেয়েছে যে স্বামীকে ছাড়া জীবন কত কঠিন হতে পারে অথবা ডিভোর্স হয়ে গেলে জীবন কত কঠিন হতে পারে। কিন্তু সে সরাসরি একবারও বলেনি, “ডিভোর্স হলে বুঝবি, দুনিয়া কত কঠিন।” সে শুধু বলেছে, “চলে গেলে বুঝতে পারবি, দুনিয়া কত কঠিন।”

এরপর রান্নার কাজ করতে করতে একই বিষয় নিয়ে আবার কথা হয়। তখন সে বলে, “আমার দ্বিতীয় বউ আছে, না থাকলে চলে যাও। আমি তোমাকে আবার বলছি, চলে যাও।”

আমার মনে হচ্ছে, সে হয়তো তালাক দেওয়ার নিয়তে এসব কথা বলেনি। কারণ সে আগেও বলেছিল যে সে আমাকে তালাক দেওয়ার নিয়তে এসব কথা বলেনি। সে শুধু আমাকে চলে যেতে বলেছে।

এতে কি আমাদের সংসারে কোনো সমস্যা হবে?

২. আসসালামু আলাইকুম হুজুর, হুজুর, ২য় বিয়ে নিয়ে আমার আর আমার স্বামীর মধ্যে ঝামেলা হয়। আমি কোনোদিনও তালাক চাই না, এটা আমার স্বামী জানে। এমনকি আমি এই বিষয়টা ভয় পাই, সেটাও সে জানে। তো ঝগড়ার মাঝে সে বলে, তুই যদি তোর সংসার চাস, তাহলে চুপ থাক। তুই তো ভয় পাস, এটা বেশি, সংসার টিকানোর বিষয়টা। যদি চাস, চুপ থাক। তারপর আরও বলে, চুপ থাক, নইলে সংসার হারাবি।তারপর আরও বলে, চুপ থাক, নইলে সংসার করব না| তারপর আরও অনেকবার বলে, সংসার করব না আমি তোর সাথে,। আমি জিজ্ঞেস করি, কোন নিয়তে বলেছে? সে বলে, চুপ থাক!!! আমি ৫-৬ বার জিজ্ঞেস করেছি, আমার মুখ চেপে ধরেছে। আল্লাহ জানে, হয়তো আমাকে থামানোর জন্য নিয়ত ছাড়া, ধমকের জন্য বলেছে। এটা মানে নিয়ত ছাড়া বললে কি কোনো শর্তযুক্ত তালাকের পর্যায়ে পড়বে? মানে আমি পরে ওই কাজগুলো তখন করে ফেললে কি কোনো সমস্যা হবে??? আরও বলে, শুয়া থেকে উঠবি না, খারাপ হবে। এমন আরও অনেক কেনায়া শর্তযুক্ত কথা বলে। এখন এসব নিয়ত ছাড়া বললে কি কোনো সমস্যা হবে? নিয়ত জিজ্ঞেস করায় মুখ চেপে ধরে বলেছে, চুপ, একদম!কথা এসব বলার একটু আগেও বলেছিল, আমি কালকে দিয়ে আসবো তোমায়। আমার দায়িত্ব সব আমি পালন করবো।এটাও বলেছিল, এরও একটু আগে, “আমাকে ছাড়া থাকতে পারবা?” আমি বলেছিলাম, “না।”

3.. ওয়াইফের মা বলেছিল চলে যেতে ওয়াইফকে আর বলেছিল হাজব্যান্ড ডিভোর্স না দিলেও তাকে দিতে মানে পরে তো ওয়াইফ বলে না দিবো না। মা আরও বলে ওই ছেলে তোকে ভালোবাসে না তুই এক তরফা ভালোবাসিস। তো পরে হাজব্যান্ড জিজ্ঞেস করে মা কী বলেছে? ওয়াইফ বলে বলেছে চলে যেতে কিন্তু ডিভোর্সের কথা বলে নি মানে মা যে ডিভোর্সের কথা বলেছে এটা। তো হাজব্যান্ড যদি বলে তোমার মা যেটা বলেছে এটা যদি তোমার সঠিক মনে হয় ভালো মনে হয় চলে যাও। এখন এই কথা নিয়ত ছাড়া বললে কি কোনো কন্ডিশনাল তালাকের পর্যায়ে পড়বে? মানে মায়ের সাথে ফোনে কী কথা হয়েছে এটা ২ ঘণ্টা পর হাজব্যান্ডকে বললে?মানে স্ত্রীর যদি মনে আসে মা বলেছে যে এটা ঠিক কিন্তু তবুও সে ডিভোর্স চায় না দিবে না এমন হলে?

4.একদিন ঝগড়া করে স্বামীকে সন্দেহ করে স্ত্রী চলে যাচ্ছিল। স্ত্রীর মাও বলে চলে আয়, কিন্তু অর্ধেক যাওয়ার পর স্ত্রী আবার ফিরে আসে। স্ত্রী স্বামীকে বলে, মা চলে যেতে বলেছিল কিন্তু আমি যাইনি, ফিরে এসেছি। স্বামী বলে, তোমার মা যা বলতেছে তা করো। স্ত্রী বলে, আমার মা কী বলেছে জানো? স্বামী বলে, কী? আমার মা বলেছে তোমাকে ডিভোর্স দিতে, কিন্তু আমি দেব না বলে বলেছি। তারপর আর কোনো কথা হয়নি। স্বামী শুধু বলেছিল, আমি জীবনে এই কথা বলিনি, কীভাবে বলল তোমার মা এটা? স্বামী বলেছে, জাস্ট যেতে, মা-বাবার সাথে ভালো থাকলে ওখানে থাকতে। তার ২-৩ ঘণ্টা পর স্বামী-স্ত্রী হেসে হেসে রান্না করছিল। স্বামী আবার বলে, তোমার মা কীভাবে বলল? তারপর বলে, যাও, বাসায় মানে বাপের বাসায়। স্ত্রী তো রেগে যায়, আমার মা বলেছে তোমাকে তালাক দিতে আর তুমি বলো যাও। স্বামী বলতেছে, আমি এটা এমনিতে বলেছি, তালাকের জন্য যেতে বলিনি। ২-৩ ঘণ্টা পর এটা বলার কারণে কি কোনো সমস্যা হবে?
5.স্বামী যদি বলে, “তুকে ছেড়ে আরেকটা বিয়ে করলে কী হইছে? করব আরেকটা।” স্ত্রী যদি বলে, “ছেড়ে মানে?” স্বামী আবার বলে, “তুকে রেখে আর কী।” মানে, দ্বিতীয় বিয়ের কথা বলছিল। তারপর বলে, “চলে যা, তুই তোর বাপের বাড়ি। সংসার করব না তোর সাথে।”
বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল, প্রথম স্ত্রী বাপের বাড়িতে থাকবে, কিন্তু তার সমস্ত দায়িত্ব স্বামী পালন করবে। এতে কি কোনো তালাক হয়?
এখানে “ছেড়ে” বলতে বউ একজনকে রেখে আরেকটা বিয়ে করা বোঝাতে এমন বললে কি কোনো তালাক হয়? তালাকের মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া—সেই অর্থে কথাটা বলা হয়নি।

Khadija Edited question